অদম্য ফুটবলার উজ্জ্বল চৌধুরীর আকুতি

অদম্য ফুটবলার, উজ্জ্বল চৌধুরীর আকুতি, অদম্য ফুটবলার উজ্জ্বল চৌধুরী

জীবিকা

আমি উজ্জ্বল চৌধুরী। একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। রাউজানের পাহাড়তলিতে বাবার ছোটো সবজি বিক্রয় প্রতিষ্ঠান আছে। আমার একটা ক্ষুদ্র ইচ্ছে ছিলো ঢাকা ডিভিশনে যে কোনো একটা দলের হয়ে লিগে খেলবো।

উজ্জ্বল চৌধুরী, খেলোয়াড় উজ্জ্বল চৌধুরী
অগ্রণী সংঘের জার্সি পরা উজ্জ্বল চৌধুরী

খেলোয়াড় জীবন

সে আশায় পাড়ি ও জমিয়েছিলাম ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর ।আরামবাগের হয়ে ট্রায়াল দিয়েছিলাম বাফুফের টার্ফের মাঠে। হতাশ হয়েই ফিরে আসি।

২০১৭ সালে ভাগ্যক্রমে চট্টগ্রামে তৃতীয় বিভাগে অগ্রণী সংঘে সুযোগ পাই আমার ফুটবল জীবনের প্রথম স্টেডিয়ামে বল নিয়ে দৌড়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করি। সবার খুব বাহবা অর্জন করি এবং জানতাম না সে বাহবা ছিলো ক্ষণিকের! আমার জীবনে ওই বছরই যে ফুটবলে আর পা রাখতে না পারার অভিজ্ঞতা হয়ে যাবে সেটা জানা ছিলো না।

উজ্জ্বল চৌধুরী, খেলোয়াড় উজ্জ্বল চৌধুরী
অনুশীলনরত উজ্জ্বল চৌধুরী

জীবনে বিপর্যয়

তখন সম্ভবত অক্টোবরের ১২ তারিখ ২০১৭। সেদিন প্র্যাকটিসে হাঁটুর ইনজুরিতে পরি,ডাক্তার বললেন তোমার আর ফুটবলকে প্রফেশন হিসেবে নেয়া হবে না। ডাক্তারকে ভুল প্রমাণ করতে গিয়েছিলাম ঢাকা ট্রায়ালে সেখানেও হতাশ,এরপর সম্ভবত ৪ বার মাঠে নেমেছিলাম চারবারই হাঁটুর লিগামেন্ট ছিড়তে ছিড়তে দুইটুকরো হবার উপক্রম! এর ভেতর আমার একটাই প্রাপ্তি ছিলো আমি আমার বিবিএ কমপ্লিট করে গতবছর মাস্টার্সে ভর্তি হই।মনে পড়ে বিবিএ তৃতীয়বর্ষের পরীক্ষা দিয়েছিলাম  পায়ে ব্যান্ডেজ মুড়িয়ে।

এরপর থেকে আর নামা হয় নাই।

এরপর ২০২০ এর শেষের দিকে পরিবারের সহায়তায় ভারতে যায় অপারেশন করাতে। কারণ বাংলাদেশে ১২০০০০ চাইছিলো আর ১২০০০০ এ আমি ভারতে করিয়ে আসতে পারতাম,তাই পরিবারের সর্বোচ্চ চেস্টাই ভারতে যাই। এবং নানাদিক বিবেচনা করে ভারতকে বেচে নিয়েছিলাম।

সেখানে গিয়ে শরীরে ধরা পরে আরেক অসুখ(-----),সে মুহুর্তে ডাক্তার জানালো আমার পায়ের আগে ওই রোগটার অপারেশন করা অতীব জুরুরী। তাই সাতপাঁচ না ভেবে ওই অপারেশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।বলে রাখি সেখানে  আমার মামা আমাকে সহায়তা করেছিলো।বেঁচে থাকলে আবার লিগামেন্ট অপারেশন করাতে পারবো সেই আশায় সব টাকা ওই অপারেশনে খরচ হয়ে যায়!

বর্তমান অবস্থা

আমার পক্ষে এবং আমার পরিবারের পক্ষে এইমুহুর্তে পায়ের অপারেশন করানো পসিবল না। আমার এই স্টাটাস টা লিখার মুল কারণ। যতটুকু জানি সিজেকেএসের যখন সদস্যপদ লাভ করি তখন যেসব কাগজ দেয়া হয়ে ছিলো.. 

তাতে একজন সদস্যকে কোনোরকম দুর্ঘটনা ঘটে গেলে সিজেকেএস থেকে সাহায্য সহযোগিতা করা হয়! আমি পুরোপুরি খবর নিই নাই যে এই কথার কতটুকু সত্যতা।তবে আমার তখনকার একি ক্লাবের গোলকিপারকেও আশ্বাস দেয়া হয়েছিলো শুনেছিলাম।

উজ্জ্বল চৌধুরী
পুরস্কার গ্রহণে উজ্জ্বল চৌধুরী

আমি আবারো ফুটবলে ফিরতে চাই😭

আমার এই স্টাটাস যদি সিজেকেএস এর কারো চোখে পড়ে এবং তাহলে আমি কোনো প্রকার সহযোগিতা পেলে আবারো একটা উদ্যােগ নিতে এগিয়ে যাবো। আমি যদি ভুল কিছু বলে থাকি তাহলে ক্ষমাপ্রার্থী। 

ছবিটা বাসার দেওয়ালে ঝুলানো আছে ভাবলাম নামিয়ে নিই।যেই কথা সেই কাজ ছবিটা নামিয়ে যত্ন করে তুলে রাখবো সেই আশায় ভাবলাম একটা ছবি তুলে শেষ একটা পোস্ট করি অনলাইনে।

অনেকেই অনলাইন থেকে নানান সুবিধে পেয়েছে তাই আমারও এই চেষ্টা।

যদি আবারো ফিরতে পারি ফুটবলে তাহলে আমার চেয়ে আর বেশি খুশি কেউ হবে না,আমার পরিবারে বাবা ও একজন ফুটবলার ছিলেন, দাদাও ছিলেন কেউই স্টেডিয়াম অবধি যেতে পারে নাই, যাও আমি স্টেডিয়াম দেখেছি তবে সৌভাগ্য হয় নাই আর কিছু করার।

এখন ও ভাঙা পা নিয়ে মাঠে যায়।তবে খেলতে নয় খেলা দেখতে।

খুব খারাপ লাগা থেকে লিখতে বসা।

যোগাযোগ

আমার কোনো প্রকার অভিযোগ নেই, এটি আমার শুধুমাত্র একটি অনলাইন প্রয়াস? নয়তবা এই আমার ফুটবলের শেষ পরিসমাপ্তি। আর কখনও ফুটবল সংশ্লিষ্ট কিছুতেই নিজেকে জড়াবো না। 

বিস্তারিত - 01853049990

আপনাদের একটা শেয়ারে যদি কেউ এই বিষয়ে কথা বলেন?

পুরো আর্টিকেলটি উজ্জ্বল চৌধুরীর প্রোফাইল থেকে নেওয়া