ব্রহ্মজ্ঞানী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর বাণী বিস্ফোরণ

লোকনাথ ব্রহ্মচারী, ব্রহ্মজ্ঞানী, বাবা লোকনাথ, Baba loknath, ব্রহ্মজ্ঞানী লোকনাথ ব্রহ্মচারী

আজ যোগীরাজ লোকনাথ ব্রহ্মচারীর  ২৯১ তম আর্বিভাব দিবস। যিনি বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বহু পাহাড়, পর্বত,হিমালয়ের কঠিন বরফের মত কণ্ঠকময় ও বন্ধুর পথ অতিক্রম করে যোগ-ধ্যানের মাধ্যমে ঈশ্বর সাধনা করেছেন আর মানবজাতিকে শিখিয়ে দিয়েছেন ঈশ্বর লাভের পন্থা!

অথচ লোকনাথ বাবার সেই পন্থা অনুসরণ না করে তার চরণ নিয়ে কান্নাকাটি করেই পড়ে আছি!

সেই সব আদর্শবিচ্যুত অনুসারীদের জন্য ব্রহ্মজ্ঞানী লোকনাথ ব্রহ্মচারী এমন কিছু বাণী আমাদের দিয়ে গিয়েছেন যেগুলোর পঠন-পাঠন ও চিন্তনে আমাদের হৃদয়ে ব্রহ্ম জ্ঞান লাভের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হবে বলে আমি মনে করি।

"ঈশ্বরই একমাত্র সদগুরু তোরা আমার চরণ ধরিস না, আচরণ ধর"।

“ আমি শতাধিক বৎসর পাহাড়-পর্বত পরিভ্রমণ করে বড় একটা ধন কামাই করেছি, তোরা ব'সে খাবি ”-লোকনাথ ব্রহ্মচারী

১. সমাধির উচ্চতম শিখরে গিয়ে যখন পরমতত্ত্বে পৌঁছালাম, তখন দেখি আমাতে আর অখিল ব্রহ্মান্ডের অস্তিত্বে কোন ভেদ নেই। সব মিলেমিশে একাকার।

২.জীবমুক্ত হইতে হইলে সংসার বন্ধন পরিত্যাগ করিতে হইবে।

৩. আমার বিনাশ নেই, শ্রাদ্ধও নেই, আমি নিত্য পদার্থ। অর্থাৎ এই ‘আমি’ হলাম গীতায় বর্ণিত ‘পরমাত্মা’।

৪. শোন্, বিদ্যার তুল্য চোখ, কর্মফল ত্যাগের তুল্য সুখ আর বিষয়স্পৃহা তুল্য দুঃখ কিছুই নেই।

৫.কাম, ক্রোধ সব রিপুই অবচেতন মনের স্তরে স্তরে সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। সুযোগ পেলেই তারা প্রকাশ হয়, কারণ মানুষ তাদের অস্তিত্ব সম্বন্ধে সচেতন হয়। অচেতন মন রিপুদের অবাধ ক্রীড়াক্ষেত্র। 

৬. বিদ্যা, তপস্যা, ইন্দ্রিয়সংযম ‍ও লোক পরিত্যাগ ছাড়া কেউই শান্তিলাভ করতে পারে না।

৭. অহং চলে গেলে নিজের মনই নিজের গুরু হয়, সৎ ও অসৎ বিচার আসে। জ্ঞানের সঙ্গে ভক্তির মণিকাঞ্চন যোগ হলে শ্রদ্ধা হবে তোদের আশ্রয়, শ্রদ্ধা হবে তোদের বান্ধব এবং শ্রদ্ধাই হবে তোদের পাথেয়। 

৮. যে ব্যক্তি সকলের সুহৃদ। আর যিনি কায়মনোবাক্যে সকলের কল্যাণ সাধন করেন তিনি যথার্থ জ্ঞানী।

৯. গর্জন করবি কিন্তু আহাম্মক হবি না ক্রোধ করবি কিন্তু ক্রোধান্ধ হবি না।

১০. যে ব্যক্তি কৃতজ্ঞ ধার্মিক সত্যচারী উদারচিত্ত ভক্তিপরায়ন জিতেন্দ্রিয় মর্যাদা রক্ষা করতে জানে আর কখনো আপন সন্তানকে পরিত্যাগ করেন না এমন ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন।

সুতরাং যোগীরাজ লোকনাথ ব্রহ্মচারীর চরণ না ধরে তার জীবনাদর্শন অনুসরণ করে ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও জীবনের উন্নতি লাভে অগ্রসর হোন!

ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি!
ওঁ সর্বেসাম মঙ্গল ভূয়াৎ!

কলমে- সুজয় আইচ