আমি কে? | উদয় কুমার উৎস

আমি কে?, উদয় কুমার উৎস, মানুষের আসল পরিচয়

আমি কে? কোথা থেকে আমার উৎপত্তি আর কোথায়ই বা আমার পরবর্তী গন্তব্য; প্রায়শই এই প্রশ্নগুলো আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সম্পর্কে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে বিভিন্ন প্রকার তথ্য দেয়া আছে। জানিনা সেসব সত্য কি না!

তবে এই বিষয়গুলো নিজে প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করতে ইচ্ছে করে। ঠিক সেই সময়গুলোতে আমার অলক্ষ্যেই আমার কন্ঠে ধ্বনিত হয় "বেঁচে থেকে লাভ কী।" পার্থিব জগতের নিয়ম অনুযায়ী বেঁচে থেকে অনেক কিছু করা অথবা সফল হওয়াকে জীবনযুদ্ধে জয়ী উপাধিতে ভূষিত করে সুপুরুষ আখ্যা দেয়া হয়। 

বিপরীতে জীবন যুদ্ধে পরাজিত মানুষটাকে উপাধি হিসেবে দেয়া হয় কাপুরুষ নামক গঞ্জনা। সমাজের কাছে সে সর্বদা তিরস্কারই উপহার পায়। এটাই আমাদের আপাতদৃষ্টিতে সদা সৌন্দর্যরূপী সমাজের রূপ। 

একটা প্রবন্ধে পড়েছিলাম "তেলা মাথায় তেল দেয়া মনুষ্য জাতির রোগ।" যত দিন যাচ্ছে এই কথাটির বাস্তবতাকে তীব্র থেকে তীব্রতরভাবে উপলব্ধি করে যাচ্ছি। দেখছি সমাজে যারা প্রতিষ্ঠিত তাদেরকে তোষামোদ করতেই সমাজ ব্যস্ত৷

অথচ কথা ছিল যারা সামাজিকতার মানদণ্ডে কাপুরুষ তাদেরকে অনুপ্রেরণা দেয়ার যাতে তারা পূর্ণ উদ্যম নিয়ে পরিশ্রম করে নিজেদের জীবনকে সাফল্যমন্ডিত করতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা তার বিপরীত। সঙ্গত কারণেই এই সমাজ, সংসার সকল কিছুই আমার বিরক্তির অন্যতম একটি কারণ, পাশাপাশি নিজের সত্তাকে খুঁজে পাবার সহায়কও।

জানিনা এ পথে সফল হতে পারবো কি না। এই কণ্টকাকীর্ণ পথে সফল হয়েছে এমন দুজন ব্যক্তি হচ্ছেন গৌতম বুদ্ধ এবং লোকনাথ ব্রহ্মচারী। তাদের অনুসরণ করা অনেক কষ্টের ব্যাপার যা বর্তমান বিশ্বে হয়তোবা সম্ভবও না।

তবুও আপনা-আপনি উপলব্ধির মাধ্যমে স্বীয় সত্তাকে জানার যে প্রক্রিয়া তা চলমানই রাখতে চাই। তবুও পাগলের চিন্তার মতন মাঝে মাঝে ভাবি ঈশ্বর যদি আমাকে এসে বলে দিতেন এমন একটা পথ, যেই পথ অনুসরণ করলে আমি আমার স্বীয় সত্তা জানার পথে অচিরেই সিদ্ধি লাভ করবো।

কলমে- উদয় কুমার উৎস