পিতৃহারা প্রতিবন্ধী দীপঙ্করের পাশে কেউ নেই

পিতৃহারা প্রতিবন্ধী, আইনের ভন্ডামি, আইনের দ্বিচারিতা

সক্রেটিস বলেছেন, যার টাকা আছে তার কাছে আইন খোলা আকাশের মত, আর যার টাকা নেই তার কাছে আইন মাকড়শার জালের মত! সক্রেটিসের এই কথাটি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি বাঁশখালীর বিশিষ্ট সমাজসেবক অমৃত কারণ দাদার লেখা একটি ঘটনা পড়ে। ঘটনাটি সরাসরি অমৃত দাদার ফেইজবুক প্রোফাইল থেকে তুলে ধরলাম- 

পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ৭০ বছর বয়স্ক বৃদ্ধ দুলাল চক্রবর্তীকে গত ১ মাস আগে উপজেলা পরিষদ ( উপজেলা পরিষদের ৫০ গজ উত্তর পার্শ্বে ) কতৃক প্রদত্ত করোনা কালীন ত্রান আনতে যাওয়ার পথে মেরে হত্যা করে ঘাতক ডাম্পার। 

সামর্থ্যবান কেউ না থাকায় মামলা জঠিলতায় কেউ না গেলেও অমৃত কারণ তাদের পরিবারের পক্ষে ১ টা আবেদন / অভিযোগ করে দুলাল চক্রবর্তীর বড় ছেলের নামে থানা ডিউটি অফিসারের কাছে দিয়ে উক্ত ঘাতক ডেম্পার থানায় তুলে দেয়।

বিকালে আমি (অমৃত কারণ) এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার এস আই মং তুয়াই তদন্তে আসেন। পরিবারের অপরাগতা ও আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ ময়না তদন্ত ছাড়া বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাথমিক সনাক্তে লাশ দাহ সম্পন্ন করা হয়।স

১ মাস পর আজকে (২৮ জুন ২০২১) থানায় গাড়ী না দেখে  বৃদ্ধা দুলাল চক্রবর্তীর স্ত্রী অমৃত কারণকে বলেন। উক্ত অফিসারকে ফোন করলে আমি (অমৃত কারণ) এস আই মাসুদের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। অফিসার বলেন, " আপনারা মামলা করেননি। আদালতের অর্ডারে গাড়ী নিয়ে গেছে। 

উল্লেখ্য, যেদিন দুলাল চক্রবর্তী মারা যান তার ২ দিন পর গাড়ীর মালিক ও বাস শ্রমিক সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন এসে ৫০ হাজার টাকা দেবে বললে, প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েদের জন্য ক্ষতি পূরণের টাকা বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করে আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশিরা। এরপর আর যোগাযোগ করেনি মালিক পক্ষ । এদিকে ঘাতক ডাম্পার গাড়ীর মালিকরা গাড়ী থানা থেকে নিয়ে গেছে। 

আজকে (২৮ জুন ২০২১) বাস শ্রমিক সভাপতি জয়নালের সাথে আলাপ করলে সে বলছে, সে গাড়ীর বিষয়ে জানে না। থানা বলছে, ঐ জয়নাল নাকি বলেছে, মৃত ব্যাক্তির পরিবারের চাওয়া নাই"! । যা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। পরিবারের দাবী অবশ্যই আছে। তারা দরিদ্র ও অসহায়। কি সময় চলছে দেখুন।  

এই পরিবারে ২ শারীরিক প্রতিবন্ধী, ১ মানসিক প্রতিবন্ধী,  ২ শিশু ও বৃদ্ধাসহ ৭ জন মানুষের দৈনিক খাওয়ার জোটানোর মত কেউ নাই। যা আমি (অমৃত কারণ) আগেও বার বার বলেছি।  

ইউএনও সাইদুজ্জামান মহোদয় ঐদিন তাৎক্ষনিক ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন সৎকার কাজের জন্য।প্রশাসন ও সকল সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। এই অমানবিক নাম্বারবিহীন ডাম্পারের মালিকের আচরন!

থানা অফিসার মং তুয়াই  বলেছিল, মালিক যোগাযোগ করলে সহায়তা নিয়ে দিবেন। কেউ কথা রাখে না!!! কি সময় চলছে এই করোনা সন্ক্মণ মহামারীকেও  কেউ ভয় করছে না!!!

হিন্দু পরিষদ,  ব্রাহ্মণ সংসদ, শিক্ষিকা অনুপ্রভা ধর, পরিবারবর্গ,প্রতিবেশি,নিকাত্মীয়স্বজনসহ অনেকে ব্যক্তিগত আর্থিক সহায়তা করে বৃদ্ধটির সৎকার সম্পন্ন করেন।

এই সহজ, সরল, সৎ, আজীবন দায়িত্বশীল, নিরলস কর্মী, ধার্মিক দুলাল চক্রবর্তীর পরিবারের সাহায্যের জন্য প্রচার মাধ্যমে পরিবারটিকে সহায়তা করা আমার, আপনার সর্বপরি আমাদের একান্ত প্রয়োজন।

--------------

কি বুঝলেন? টাকার কাছে সব বিক্রি হয়ে যায়। এক অসহায় দরিদ্র ব্রাহ্মণ যিনি একটি প্রতিবন্ধী পরিবারের অন্ধের লাঠির মত তাকে হত্যা করার পর বিশিষ্ট ডাম্পার মালিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিল। কিন্তু কোন টাকা দিন না আর অন্যদিকে আইন তাঁর টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেল।

এটাই আইন। যার টাকা আছে আইন তাঁর কাছে পান্তা ভাত, আর যার নেই তাঁর কাছে লোহার কলাইয়ের মত।