গীতা কি? গীতা কেন আজও মানুষের কাছে চিরনতুন



গীতা মানে গীত,শ্রীভগবানের  গাওয়া গীত।ভগবানের হৃদয় থেকে নিঃসৃত স্বতস্ফুর্ত দিব্য গীত।যার অপ্রাকৃত সুর শ্রীভগবানের হৃদয় থেকে স্বয়ং উত্থিত হয়েছে।তাই গীতা এত মাধুর্যমণ্ডিত,এত সুললিত।হাজার বছর অতিক্রম হলেও এই গান আজও চির নতুন।

যার সুরের মু্র্ছনা আজও মোহিত করে তার শ্রোতাজনের হৃদয়কে।পবিত্র করে কলির প্রবল প্রতাপে কলুষিত কলিহত জীবের  চিত্তকেও।এই মধুর গীত যে শোনে সে একবার হলেও চকিত হয়,বিস্মিত হয়। প্রাকৃত(জড়)জগতের অনন্ত ভৌতিক জ্ঞানও যার অলৌকিক অতিন্দ্রিয় জ্ঞানের কাছে তৃণসম।যে গীতে লুকিয়ে আছে মানব জীবনের চরম উৎকর্ষ তথা দুঃখময় সংসাররুপ দুর্ভেদ্য শৃঙ্খল থেকে মুক্তিলাভের পথ। দুঃখের সীমানার বাইরে নিত্য শাশ্বত পরমানন্দ লাভের গোপন সুত্রকথা।আধ্যাত্মিক-আদিভৌতিক-আদিদৈবিক ত্রিবিধ দুঃখ থেকে পরিত্রাণের সহজ ও একমাত্র উপায়।তাই তো শ্রুতি বলছেন--

শৃণ্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্রা আ যে ধামানি দিব্যানি তস্তু।বেদাহমেতং পুরুষং মহান্তমাদিত্যবর্ণং তমসঃপরস্তাৎ।তমেব বিদিত্বাতিমৃত্যুমেতি নান্যঃ পন্থা বিদ্যতে অয়নায়।।

হে অমৃতের বরপুত্রগণ!অজ্ঞানরুপী অন্ধকারের অতীত পরব্রহ্মকে আত্মরুপে জানা ব্যতীত সংসারবন্ধন থেকে মুক্তিলাভের আর কোন পথ নেই।তাকে জানাই তমসার পরপারে সচ্চিদানন্দঘন পরব্রহ্ম প্রাপ্তি।

গীতারুপী গীত বেদোক্ত সেই দিব্য পথেরই বার্তা শোনায়।এই গীত অদ্বৈত অমৃত বর্ষণকারিণী।বেদান্তের একমাত্র ধ্যেয় ব্রহ্মতত্ত্বের উদ্ঘোষক।বেদান্তরুপী রাজমার্গই গীতার মার্গ। যে রাজমার্গে এসে সব মার্গই  যেন একই মার্গে মিলিত হয়।যা সাধককে ভুমার সন্ধান দেয়।সাধককে পরিচয় করায় তার নিজ স্বরুপের সাথে। "কে আমি? কি আমার পরিচয়?কিবা আমার স্বরুপ?

জিজ্ঞাসু মানব মনের এইসকল প্রশ্নের যথার্থ সমাধান আছে এই গীতের প্রতিটি অন্তরায়। অজ্ঞানজাত শোকমোহে আবিষ্ট অর্জুনরুপী মানবের সকল উৎকণ্ঠা অবসানের মন্ত্র।"সর্বং খল্বিদং ব্রহ্ম" "বাসুদেব সর্বমিতি"রুপী একাত্মদৃষ্টির জনক এই গীত।গীতায় কি নেই? নিষ্কাম কর্ম,ধ্যানযোগ,ভক্তিযোগ,তথা আত্মতত্ত্বের গুঢ় রহস্যময়ী অধ্যাত্মবিদ্যা সবই আছে গীতার পরতে পরতে।চাই কেবল অর্জুনের ন্যায় প্রকৃত একাগ্র শ্রোতা,শোনার উৎকণ্ঠা,চাই পুর্ণ সমর্পণ,শরণাগতি।তবেই তো হবে শ্রোতার চির কল্যাণ,গীতামৃত আনন্দরসের পরিপুর্ণ আস্বাদন।হবো মোরা পুর্ণকাম।ওঁ।
**************
আচার্য জ্ঞানানন্দ